অনেকেই প্রায়ই প্রশ্ন করেন: "নাস্তিকদের ধর্ম নিয়ে এত মাথা ব্যথা কেন? যে যেভাবে বিশ্বাস করছে করতে দিন না! কেউ যদি জেনেশুনে বোকা থাকতে চায়, তবে তাকে থাকতে দিন, আপনারা কেন টানাটানি করেন?"
প্রথম দর্শনে কথাটি যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে সত্যটা অন্যরকম।
এই পৃথিবীটাকে সুন্দর, সভ্য ও মানবিক করার দায়িত্ব আমার আপনার সকলের।
একটি ভুল ও অন্ধ বিশ্বাস যখন সমাজে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বা মানবাধিকার খর্ব করে, তখন সেই বিশ্বাসকে কীভাবে থামানো সম্ভব?
বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা যাক:
ধরুন, অতীতে যখন সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল, তখন একজন অন্ধ বিশ্বাসী ব্যক্তি একজন জীবিত বিধবা নারীকে তাঁর মৃত স্বামীর চিতায় পুড়িয়ে মারার কাজে লিপ্ত হতো। সে কিন্তু মনে করত যে সে পরম পুণ্যের কাজ করছে এবং কোনো অপরাধ করছে না। তার বিশ্বাস ছিল, স্বামী'র সাথে তাকে চিতায় তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সে নারীটির উপকারই করছে, কারণ এর ফলে সে স্বর্গে যাবে!
এখন আপনি বা আমি যদি সেই ব্যক্তিকে গিয়ে বলি, "তুমি যেটা করছ সেটা একটা জঘন্য অন্যায় ও নির্মম অপরাধ,"—তাহলে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তার ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত লাগবে। এখন বলুন, তার ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত না দিয়ে বা তাকে না বুঝিয়ে কি এই খারাপ কাজটি থেকে তাকে বের করে আনা সম্ভব? ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসের কারণে কেউ যদি অন্যায় করে, তবে তার সেই ভুল ধারণা না ভাঙলে কি সমাজকে মানবিক করা যায়?
নাস্তিকরা ঠিক এই কাজটাই করতে চায়। কোনো ধর্মবিশ্বাসী মানুষকে শারীরিক বা আর্থিক ক্ষতি না করে, কেবল যুক্তি ও সত্য দিয়ে তাঁর ভুল ধারণাটি ভেঙে দিতে চায়—যাতে একটি সভ্য, কুসংস্কারমুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।
ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি কিছু কথা
অনেকে হয়ত ভাবছেন: "সতীদাহ প্রথা তো কুসংস্কার এবং অন্য ধর্ম ভুল হতে পারে, কিন্তু আমাদের ইসলাম ধর্ম তো সম্পূর্ণ সত্য ও নিখুঁত! আমাদের ধর্মে এমন ক্ষতিকর কিছু নেই।"
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, বিষয়টি কি সত্যিই তাই? নাকি আপনাদের অনেক কিছুই জানতে দেওয়া হয় না?
সাধারণত ওয়াজ-মাহফিল বা জুম্মার বয়ানে হুজুররা কোরআন ও হাদিসের কেবল ইতিবাচক অংশগুলোই শোনান। আর বাকি সময় আপনাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে রাখা হয়—যাতে ধর্মভিত্তিক এই ব্যবসাটি টিকে থাকে। একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন:
১. জন্মসূত্রে পাওয়া বিশ্বাস: আপনি একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন বলেই শিশু কাল থেকে আপনাকে এই ধর্ম শেখানো হয়েছে। তখন আপনার মধ্যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা, তা বিচার করার ক্ষমতা ছিল না। মা-বাবা এবং সমাজ যা শিখিয়েছে, তা-ই আপনি মেনে নিয়েছেন।
২. ভয়ের মানসিক জিম্মিদশা: শৈশব থেকেই আপনার মনে আল্লাহর ভয় ও জাহান্নামের শাস্তির ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এখন যখন আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে সত্য অনুসন্ধান করতে চাইবেন, তখন বিধান দেওয়া হচ্ছে যে ধর্ম ত্যাগ করা যাবে না—ধর্ম ত্যাগ করলে শাস্তি পেতে হবে।
সহীহ হাদিসের রেফারেন্সেই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে:
সহীহ তিরমিযী - ২৬০৭ / Reference
https://www.hadithbd.com/hadith/tirmidhi/2607
https://sunnah.com/tirmidhi:2607
যেসব আপনাদেরকে জানতে দেওয়া হয় না: ইউটিউব PlayList ভিডিও লিংক
https://www.youtube.com/watch?v=4odXqyuUeOM&list=PL8dZ31Te69neTWCMU-oKm-Oa1fmMwv1W-&index=1
৩. মুক্তচিন্তাকে ভয় পাওয়ার কারণ: হুজুররা প্রায়ই সতর্ক করেন—"নাস্তিকদের কথা শুনবে না, তারা জাল হাদিস ও বানানো গল্প দিয়ে তোমাদের বিভ্রান্ত করবে।" কিন্তু সত্য হলো, বস্তুনিষ্ঠ সমালোচকরা কখনো বানিয়ে কিছু বলেন না; তাঁরা আপনাদের নিজেদের ধর্মীয় সহীহ গ্রন্থ থেকেই সত্যটা তুলে ধরেন। ধর্ম ব্যবসার ক্ষতি হওয়ার ভয়েই সাধারণ মানুষকে এই সত্যগুলো থেকে দূরে রাখা হয়।
একটি শেষ প্রশ্ন
আপনার মনে যদি ভয় থাকে যে নাস্তিকদের যুক্তি শুনলে আপনি ঈমান হারাবেন, তবে কি আপনার ঈমানের ভিত আদৌ মজবুত?
সত্য অনুসন্ধানকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নাস্তিকদের এখানে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা লাভ নেই—তাদের একমাত্র লক্ষ্য অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারমুক্ত একটি যুক্তিবাদী ও সভ্য সমাজ গড়ে তোলা।